বর্তমান সময়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সমস্যার নাম ফেইসবুক হ্যাকিং। প্রায়শই দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে এই ফেইসবুক হ্যাকিং কে কেন্দ্র করে ঘটে যাচ্ছে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা। তাই আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের কাছে ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাকিং ও করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করবো।

তাহলে চলুন শুরু করা যাক…

হ্যাকিং কি?

উত্তরঃ প্রচলিত অর্থে হ্যাকিং শব্দের অর্থ হচ্ছে চুরি করা। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার কম্পিউটার বা অনলাইন ভিত্তিক কোন মাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাস করার জন্য হ্যাকিং করা হয়ে থাকে। এছাড়াও হ্যাকিং এর পিছনে অনেক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

সাধারণত কি কি উদ্দেশ্যে ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাক করা হয়ে থাকে?

মুলত ৫টি উল্লেখযোগ্য কারণে ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাক করা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো—
১. তথ্য ফাস করার লক্ষ্যে।
২. কোন সার্ভিসকে বন্ধ করার লক্ষ্যে।
৩. নিজেকে হ্যাকার প্রমাণ করার লক্ষ্যে।
৪. ব্লাকমেইল করে অর্থ উপার্জন করার লক্ষ্যে।
৫. কোন স্বার্থ হাসিল করার জন্য। যেমনঃ রাজনৈতিক, উগ্রবাদ ইত্যাদি।

সাধারনত কি কি উপায়ে ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকে?

বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে হ্যাকার ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলি হলো—
১. ফিসিং
২. কিলগিং
৩. স্টোরড পাসওয়ার্ড
৪. সাইড জ্যাকিং
৫. নাগরিক তথ্য

১. ফিসিংঃ ফেইসবুক হ্যাকিং এর সবথেকে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে এটি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে হ্যাকার কোন ভাবে তার টার্গেটেড লিংকে আপনাকে ডাইভার্ট করবে এবং উক্ত লিংকে ক্লিক করার পর আপনি দেখতে পারবেন যে ফেইসবুক লগইন পেইজের অনুরূপ একটি পেইজ আপনাকে প্রদর্শন করানো হচ্ছে। যেটাতে আপনাকে লগ ইন করার জন্য বলা হচ্ছে। যদি আপনি এই পেইজে লগ ইন ইনফরমেশন দিয়ে লগ ইন করেন তাহলে আপনার ফেইসবুক একাউন্টের লগ ইনের তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যাবে।

২. কিলগিংঃ এটা একটা ভাইরাস। যা বিভিন্নভাবে ফোন অথবা কম্পিউটারে মধ্যে হ্যাকার ইঞ্জেক্ট করে থাকে। এই ভাইরাসটা একবার আপনার ফোন বা কম্পিউটার ইন্সটল হয়ে গেলে তা আপনার কম্পিউটার বা ফোনের সকল তথ্য নজরদারি করতে শুরু করে দেয় এবং হ্যাকারকে তা পাঠাতে থাকে।

৩. স্টোরড পাসওয়ার্ডঃ আমরা প্রায়সময় আমাদের পাসওয়ার্ড বার বার যাতে দিতে না হয়, সেজন্য পাসওয়ার্ডগুলো সেইভ করে থাকি। এই সেইভ করা পাসওয়ার্ডগুলো পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে স্টোরড হয়ে থাকে। তাই হ্যাকার ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাক করার জন্য এই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার হ্যাক করে থাকে।

৪. সাইডজ্যাকিংঃ আমরা অনেকেই প্রায়শই কোন পাবলিক নেটওয়ার্ক বা সাইবার ক্যাফে ব্যবহার করে ফেইসবুক ব্রাউজ করে থাকি। তখন হ্যাকার এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্রাউজের ক্যাশ কুকিস ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করে একাউন্ট হ্যাক করে থাকে।

৫. নাগরিক তথ্য চুরিঃ এই পদ্ধতিতে হ্যাকারের নাগরিক তথ্য (যেমন ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদি) সংগ্রহ করে ফেইসবুকের সিকিউরিটি ফিচার ব্যবহার করে ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে থাকে।

ফেইসবুক হ্যাকিং রোধে করনীয় কি?

একটু সচেতন হলে খুব সহজেই ফেইসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে বিরত থাকা যায়। কারণ ফেইসবুক প্রত্যেকটি ফেইসবুক এক্যাউন্ট হ্যাক থেকে বিরত রাখার জন্য অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এট ব্যবহার করে আপনি আপনার একাউন্টকে প্রোটেক্ট করতে পারেন। চলুন করনীয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. অপিরিচিত ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
২. নিজের ফেইসবুক এক্যাউন্টে কানেকটেড ফোন ও ইমেল এড্রেসের তথ্য only me করে রাখা। যাতে আপনার গোপনীয়তা হ্যাকার সহজেই জানতে না পারে। পারলে ২ টি করে ফোন নাম্বার ও ইমেইল কানেক্ট করে রাখা। তাহলে হ্যাকার যেকোন একটিকে একসেস করলে অপরটি ব্যবহার করে সহজেই নিজের এক্যাউন্টকে সেইভ করা যায়।
৩. নিজের সঠিক নেইম, জন্ম তারিখ ব্যক্তিগত ছবি প্রোফাইল পিকচারে ব্যবহার করুন। জন্ম তারিখ পাবলিক রাখা থেকে বিরত থাকুন। চাইলে সবার জন্যই জন্মসাল হিডেন রাখতে পারেন।
৪. ফেইসবুক সেটিংস থেকে ৩-৫ জন ট্রাস্টেড কন্টাক্ট এ্যাড করে রাখুন।
৫. অবশ্যই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করে রাখুন। এটা অন থাকলে হ্যাকার পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলেও ৯০% ক্ষেত্রে আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারবে না। পাশাপাশিব টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন আপনার মেইলেও অন করে রাখবেন।
৬. বিশ্বস্ত লিংক ছাড়া যেকোন লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন।
৭. ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজিং থেকে বিরত থাকুন।
৮. সন্দেহজনক সফটওয়্যার ও এ্যাপস ডাউনলোড থেকে বিরত থাকুন।
৯. অন্য কারো ডিভাইস দিয়ে ফেইসবুক লগইন করলে পারমানেন্টলি একাউন্ট লগ আউট করে দিন এবং পাসওয়ার্ড সেইভ করে রাখা থেকে বিরত থাকুন।
১০. একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, যেটা সহজেই কেউ গেইজ করতে পারবে না।
১১. ফ্রি লাইক এর সার্ভিস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
১২. বিভিন্ন থার্ড পার্টি এপসে ফেইসবুক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সচেতন হউন।
১৩. নিজের নাগরিক তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
১৪. ফেইসবুক থেকে পর্নোগ্রাফি রিলেটেড লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ মেক্সমাম ক্ষেত্রে হ্যাকার এটার সুযোগ নিয়ে থাকে।
১৫. ভাইরাস এটাক্ট থেকে বাচতে ভালো এন্টি ভাইরাস ব্যবহার করুন।

আশা করছি টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করে রাখলে আপনার একাউন্টকে ৯০% নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব হবে। এবং বাকি বিষয়গুলো মেনে চললে ১০০% নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব।

একাউন্ট হ্যাক হলে করনীয় কি?

১. যদি আপনার একাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়, কিন্তু আপনি আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারেন তাহলে আপনার একাউন্টের লগ ইন ইনফরমেশন যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করুন।
২. থানায় গিয়ে একটি জিডি করুন।
৩. ফেইসবুকের সাথে যোগাযোগ করুন।
৪. ফেইসবুক এক্সপার্টের পরামর্শ নিন।

সর্বপরি নিজের সচেতনতাই আপনাকে আপনার এক্যাউন্ট হ্যাক হওয়া থেকে বিরত রাখবে। পাশাপাশি আপনি চাইলে আমাদের সহায়তা নিতে পারেন। আমরা আপনার ফেইসবুককে হ্যাকিং থেকে নিরাপদ রাখবো এবং হ্যাককৃত আইডি ফেরত নিয়ে আসতে সহায়তা করবো।

যদি আমাদের লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকেও জানার সুযোগ করে দিন।
ধন্যবাদ